বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২-০তে সিরিজ জিততে চান। আর যদি দ্বিতীয় টেস্টে জেতার পরিস্থিতি না থাকে তাহলে যে কোনো মূল্যে ড্র করে ১-০তে সিরিজ জয়ের চেষ্টা করবেন। বৃহস্পতিবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে সাকিব জানালেন ২-০তে জিততে পারলে বাংলাদেশের জন্য স্পেশাল হবে-
আগেরদিন আঙুলে চোট পাওয়ার পর তার খেলা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়। কাল সকালে মুশফিকুর রহিমকে ব্যাটিং অনুশীলন করতে দেখে স্বস্তি পাওয়া যায়। নেটে অনেক সময় ব্যাটিং করেছেন তিনি। কিন্তু দলের একটি সূত্র জানিয়েছে, মুশফিক খেলবেন, এটা নিশ্চিত। কিন্তু উইকেটকিপিং করবেন না। এজন্য ব্যাকআপ উইকেটকিপার হিসেবে দলে নেয়া হয়েছে লিটন দাসকে। লিটন একাদশে ঢুকলে জায়গা হারাতে হবে মোহাম্মদ মিঠুনকে। মিঠুনও উইকেটকিটপার-ব্যাটসম্যান। ঘরোয়া ক্রিকেটে তিনি কিপিং করেন। তাহলে কেন লিটনকে নেয়া? নির্বাচকরা টেস্ট কিপিং করানোর জন্য মিঠুনের ওপর ভরসা রাখতে পারছেন না।
প্রশ্ন : দ্বিতীয় টেস্টে বাংলাদেশ আক্রমণাত্মক নাকি রক্ষণাত্মক খেলবে?
সাকিব : আমরা অবশ্যই জেতার জন্য খেলব। অবস্থা বুঝে টেস্ট ড্র করার চিন্তা করতে পারি। তবে প্রথম লক্ষ্য জয়।
প্রশ্ন : ঢাকার উইকেট থেকে মোস্তাফিজ সহায়তা পাবেন কী?
সাকিব : বলা যায় না। ঢাকার উইকেট থেকে সকালবেলা পেস বোলাররা খানিকটা সহায়তা পান। বিশেষ করে এখন যে আবহাওয়া তাতে হালকা শীত। কিছুটা কুয়াশা থাকে। ঢাকার উইকেট সব সময় কিছুটা পেস সহায়ক হয়। সেটা আমাদের বিবেচনায় আছে।
প্রশ্ন : অনভিজ্ঞ উদ্বোধনী জুটি সম্পর্কে কী বলবেন?
সাকিব : খেলতে খেলতে এরাই একসময় অভিজ্ঞ হবে।
প্রশ্ন : খুব বেশি অভিষেক হচ্ছে কী নতুনদের?
সাকিব : যখন কাউকে অভিষেক করানো হয় তাকে পর্যাপ্ত সুযোগ দেয়া উচিত। ওই খেলোয়াড় যেন নিজের সক্ষমতা প্রমাণের পর্যাপ্ত সময় পায়। তারপর ব্যর্থ হলে পরিবর্তন করা উচিত। ঘনঘন পরিবর্তনের পক্ষে আমি নই। এতে ভালো কিছু হয় না। তবে দিন শেষে আমরা সবাই ম্যাচ জিততে চাই। এজন্য অনেক সময় অনেক সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
প্রশ্ন : উইকেট কেমন হবে বলে মনে হচ্ছে?
সাকিব : উইকেট দেখে সব সময় অনুমান করা যায় না। মিরপুরেও খেলা শুরু হলে তখন বোঝা যাবে। আর টেস্ট ম্যাচে প্রতিদিনই উইকেটে কিছুটা পরিবর্তন হয়। উইকেটের কথা ভেবে কোনো নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে না এগিয়ে সব ধরনের চিন্তা নিয়ে মাঠে নামলেই দলের জন্য ভালো।
প্রশ্ন : আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলা নিয়ে কী বলবেন?
সাকিব : নিজস্ব খেলার ধরন পরিবর্তন করা উচিত নয়। বীরেন্দর সেহওয়াগ যদি প্রথম বলে চার মারার সুযোগ পেতেন তাহলে টেস্ট, ওয়ানডে বা টি ২০ যে কোনো ফরম্যাটেই চার মারতেন। এ ধরনের প্রয়োগ থাকা জরুরি। যে ব্যাটসম্যান ওয়ানডে ও টি ২০ ক্রিকেটে প্রথম বলে চার মারার জন্য খেলে, টেস্টেও আমি তাকে কখনই বলব না ডিফেন্স করতে। আমিও বলব ওই ব্যাটসম্যান যেন প্রথম বলেই চার মারার মানিসকতা নিয়ে মাঠে নামে।
প্রশ্ন : ২০০৯ সাল ২-০তে জয় পেয়েছিলেন, ২০১৮তেও একই সমীকরণ?
সাকিব : সুযোগ আছে। সেটা পূরণ করতে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। স্বাভাবিকভাবেই তারা আরও ভালো করার জন্য মুখিয়ে থাকবে। এখানে জিততে হলে আমাদের আরও ভালো পারফর্ম করতে হবে। আশা করি, এই চ্যালেঞ্জ নিতে পারব। এজন্য আমাদের মানসিকভাবে শক্তিশালী হতে হবে।
প্রশ্ন : সাদমানকে নিয়ে কী বলবেন?
সাকিব : আমি যতটুকু তাকে দেখেছি তাতে টেস্টের জন্য সাদমান খুবই মানানসই।
প্রশ্ন : সিরিজ জয়ের আলাদা চাপ আছে কী?
সাকিব : অতিরিক্ত কোনো চাপ নেই। ড্রেসিংরুমে সবাইকে স্বস্তিতে দেখেছি। সবাই ভালো অবস্থানে রয়েছে। একটা ম্যাচ শুরু হওয়ার আগে দলের যে আত্মবিশ্বাস থাকা দরকার ঠিক ততটাই আমাদের আছে। এটা যেন পরের কয়েকদিন আমরা ধরে রাখতে পারি।
প্রশ্ন : চার স্পিনার নিয়ে খেলা কতটা রোমাঞ্চের?
সাকিব : অবশ্যই এটা রোমাঞ্চকর। আমরা যে ধরনের পার্টনারশিপে বোলিং করতে পেরেছি সেটা দারুণ ছিল। তবে স্পিনারদের কাছে সব সময় বড় স্পেল পাওয়ার লক্ষ্য থাকে। আমি আর তাইজুল ছাড়া সেটা চট্টগ্রামে কেউ করতে পারছিল না। তারপরও সবাই চেষ্টা করেছে। দেখতে ভালো লেগেছে দুই পাশ থেকেই আমরা আক্রমণাত্মক বোলিং করতে পেরেছি।
রোমাঞ্চের চেয়ে বেশি হল চ্যালেঞ্জিং। দলের চারজন স্পিনারের মধ্যে এটা খুব ভালো একটা প্রতিযোগিতা। আমাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকবে ভালো ম্যাচটাকে আরও ভালো করার।
প্রশ্ন : উদ্বোধনী জুটিতে ভালো শুরু কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
সাকিব : শুরুটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, সেটা ব্যাটিং বা বোলিং, যা-ই হোক না কেন। বোলিং হলে দায়িত্ব থাকে ব্রেকথ্র“র। আর ব্যাটিংয়ে লক্ষ্য থাকে বলটা যেন পুরনো করে দিয়ে আসতে পারে। তাহলে খেলাটা অনেক সহজ হয়। চট্টগ্রামে বোলিংয়ে সফল হয়েছি, ব্যাটিংয়ে হইনি। এ কারণে অনেকগুলো পরিবর্তন হয়েছে। পরিবর্তন হতে থাকলে একসময় আমরা ভালো কাউকে পেয়ে যাব। সেই ভরসার জায়গা তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ। ওপেনিং জুটি ভালো হলে দলে স্বস্তি ভাব চলে আসে। প্রতিদিন ১০ রানে দুই উইকেট না থাকলে তো কাজটা খুব কঠিন, মিডলঅর্ডার তো প্রতিদিন ভালো করতে পারবে না। এটাই স্বাভাবিক।
প্রশ্ন : ২-০ কতটা স্পেশাল হবে?
সাকিব : বাংলাদেশের জন্য বিশেষ কিছু হবে, যদি আমরা ২-০তে জিততে পারি। এজন্য যে ধরনের প্রস্তুতি নেয়া দরকার সেটা নিয়েছি। তবে মূল লক্ষ্য সিরিজ জেতা। আমরা ইতিবাচক থেকে সিরিজ জিততে চাই। সেটা ২-০তে।
প্রশ্ন : লেগ-স্পিনারের অভাব বোধ করছেন?
সাকিব : বোলিংয়ে যত ভ্যারিয়েশন থাকে ততই ভালো। দলে স্পিনারের প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি। স্পিনারদের জন্য খুব বেশি সহায়তা না থাকলেও লেগ-স্পিনাররা উইকেট নিতে পারে। ফিঙ্গার স্পিনার, অফ-স্পিনার ও রিস্ট স্পিনারদের (বাঁ-হাতি) মধ্যে একটু পার্থক্য আছে। রিস্ট স্পিনাররা রান একটু বেশি দিতে পারে, কিন্তু তারা আক্রমণাত্মক হয়। আবার উইকেট ভালো হলে ফিঙ্গার স্পিনাররা খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারে না। তখন লেগ-স্পিনাররা ভালো করতে পারে।
দ্বিতীয় টেস্টে বাংলাদেশ দল
সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), সৌম্য সরকার, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, মোহাম্মদ মিঠুন, মাহমুদউল্লাহ, মেহেদী হাসান মিরাজ, নাঈম হাসান, তাইজুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, আরিফুল হক, সৈয়দ খালেদ আহমেদ, সাদমান ইসলাম ও লিটন দাস।
আগেরদিন আঙুলে চোট পাওয়ার পর তার খেলা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়। কাল সকালে মুশফিকুর রহিমকে ব্যাটিং অনুশীলন করতে দেখে স্বস্তি পাওয়া যায়। নেটে অনেক সময় ব্যাটিং করেছেন তিনি। কিন্তু দলের একটি সূত্র জানিয়েছে, মুশফিক খেলবেন, এটা নিশ্চিত। কিন্তু উইকেটকিপিং করবেন না। এজন্য ব্যাকআপ উইকেটকিপার হিসেবে দলে নেয়া হয়েছে লিটন দাসকে। লিটন একাদশে ঢুকলে জায়গা হারাতে হবে মোহাম্মদ মিঠুনকে। মিঠুনও উইকেটকিটপার-ব্যাটসম্যান। ঘরোয়া ক্রিকেটে তিনি কিপিং করেন। তাহলে কেন লিটনকে নেয়া? নির্বাচকরা টেস্ট কিপিং করানোর জন্য মিঠুনের ওপর ভরসা রাখতে পারছেন না।
কাল সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক সাকিব আল হাসান বলেন, ‘মুশফিকের ব্যাকআপ হিসেবে রাখা হচ্ছে লিটনকে। যদি ব্যথাটা বাড়ে, ফোলা থাকার কারণে তার অসুবিধা হয়, তাহলে আমাদের যেন কোনো সমস্যায় পড়তে না হয়। এখন পর্যন্ত যা জানি তাতে মুশফিক ভাই খেলবেন এবং কিপিংও করবেন।’ মুশফিক না খেললে লিটনকে কোথায় খেলানো হবে? সাকিব বলেন, ‘ওপেনিং কারা করবে এটা আমরা নিশ্চিত। লিটন যদি কিপিং করে ওপেন করাটা তার জন্য কঠিন হবে।’
বুধবার অনুশীলনের সময় হঠাৎ একটি লাফিয়ে ওঠা বল মুশফিকের ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলে লাগে। ওইদিনই তার আঙুলে এক্স-রে করানো হয়। তাতে চিড় ধরা পড়েনি। আঙুলের অবস্থা জানতে চাইলে মুশফিক কাল ঘাড় নাড়িয়ে জানিয়ে দেন ভালো। বাংলাদেশের একমাত্র ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্টে দুটি ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন মুশফিক। তিনি ব্যাটিং করেন পাঁচ বা ছয়ে। মাঝে কিছুদিন চারে ব্যাটিং করেছেন। ওই সময় অবশ্য তিনি কিপিং করেননি। মুশফিককে আরও উপরে ব্যাটিং করানো সম্পর্কে অধিনায়ক বলেন, ‘মুশফিক ভাই এখন যেখানে ব্যাট করছেন সেখানে ভালো করছেন। এখন অন্য জায়গায় সফল হবেনই এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। আমরাও তাকে পরিবর্তন করে অন্য জায়গায় দিতে চাইনি। বরং নতুন কেউ এসে ওই জায়গাগুলো পাকা করুক।’
হঠাৎ দলে ডাক পাওয়া লিটন খেলছিলেন বিসিএলে। মিঠুন দুটি টেস্ট খেলেছেন। চট্টগ্রাম টেস্টে দুই ইনিংসে ২০ ও ১৭ রান করেন তিনি।
No comments:
Post a Comment